রাশিয়ার ইতিহাস
রাশিয়া নামে যে একটি দেশ হতে পারে এই ভাবনার শুরু নবম শতাব্দীর দিকে। নিপার নদীর ধারে ছিলো কিয়েভ শহর। সেই সময় কিয়েভ শহরকে কেন্দ্র করে নিপার নদীর আশেপাশের কয়েকটি শহর মিলে একটি ছোটো ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হয়। এই কাজটি করেছিল কিছু পূর্ব স্লাভিক গোত্রের মানুষেরা। এই অঞ্চলটি এখন ইউক্রেন নামে পরিচিত। তাদের ফেডারেশনের নাম ছিলো “কিয়েবান রুশ”। তবে কিয়েবান রুশকে বর্তমান সময়ের মতো কোনো জাতিরাষ্ট্র বলা চলে না।
এরপর ত্রয়োদশ শতকে মঙ্গোলরা প্রবল প্রতাপে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে থাকে। সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য মঙ্গোলরা অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাশিয়ার ভূমিকেও রেহায় দেয়নি। এই অঞ্চলটি তখন দক্ষিণ এবং পূর্ব দিক থেকে প্রচুর মঙ্গোল আক্রোমণের শিকার হয়। এর জবাবে সদ্য জন্ম নেওয়া সেই রাশিয়া তখন একটু উত্তর-পূর্বে সরে এসে মস্কোকে কেন্দ্র করে তাদের অঞ্চলটিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজায়। সেই সময়ের রাশিয়া “গ্র্যান্ড প্রিন্সিপালিটি অফ মস্কোভি” নামে পরিচিত ছিলো। তখন অবশ্য রাশিয়াকে আক্রমণ করা সহজ ছিলো! কারণ, দেশটির কোনো প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না কোনো মরুভূমি বা বড় কোনো পর্বত। ছিল শুধু অল্প কয়েকটা নদী। আর ‘স্তেপ’ নামক বিশাল তৃণভূমির দক্ষিণ এবং পূর্বদিকে ওত পেতে ছিল মঙ্গোলরা। এই মঙ্গোলরা ছিল দুর্ধর্ষ যোদ্ধা। তারা চাইলে যে কোনো দিক থেকেই আক্রমণ করতে পারত।
রাশিয়ার সম্রাটদের বলা হয় “জার”। রাশিয়ার প্রথম জার আইভান দ্যা টেরিবল “আক্রমণই শেষ্ঠ প্রতিরক্ষা” - এই নীতি প্রবর্তন করেন। প্রথমে তিনি দেশের মানুষকে একত্রিত করার উদ্যোগ নেন। জনগণের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে রাশিয়া। শক্তি সঞ্চয়ের পরে তিনি সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে মনোযোগ দেন। বিশাল রাশিয়া এভাবেই বিশালতর হওয়ার পথে যাত্রা শুরু করে। একা একজন মানুষ কিভাবে ইতিহাস বদলে দিতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলেন জার আইভান দ্যা টেরিবল।
তার দূরদৃষ্টি আর নির্মমতা ছাড়া রাশিয়ার ইতিহাস সম্পূর্ণ অন্যরকম হতো। রাশিয়ার সম্প্রসারণ নীতি অবশ্য শুরু হয়েছিলো তার দাদু আইভান দ্যা গ্রেটের আমল থেকেই। তবে বুড়ো আইভানের রাজ্য বিস্তারের ঝোঁক ততটা তীব্র ছিল না।১৫৩৩ সালে তার নাতি আইভান দ্যা টেরিবল ক্ষমতায় আসার পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি অধিগ্রহণ করে নেন উরাল পর্বতমালার পূর্বাঞ্চল, ক্যাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণাঞ্চল এবং সুমেরুবৃত্তের উত্তর অংশ। রাশিয়া একে একে কাস্পিয়ান সাগর এবং কৃষ্ণসাগরের কর্তৃত্ব নিয়ে নেয়। এরপর তারা ককেশাস পর্বতমালাকে মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। চেচনিয়াতেও তারা সেনা ঘাঁটি স্থাপন করে। এভাবে মঙ্গোলদের পাশাপাশি পার্সিয়ান এবং অটোমান সাস্রাজ্যকেও আটকানো সম্ভব হয়।
এর মাঝে কিছু বাধাবিপত্তি এলেও, রাশিয়া পরের ১০০ বছরে উরাল পর্বত অতিক্রম করে এগিয়ে যায় সাইবেরিয়ার দিকে। ধীরে ধীরে বহুদূর পূর্বের প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল পর্যন্ত দখলে নিয়ে নেয়।
[রেফারেন্সঃ প্রিজনার্স অব জিওগ্রাফি]